একবিংশ শতাব্দীতে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন শিক্ষা বা ই-লার্নিং (E-learning) আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি অন্যতম প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ই-লার্নিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে সবার কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। গ্রাম বা মফস্বলের একজন শিক্ষার্থীও এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঢাকার সেরা শিক্ষক বা বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মত লেকচার ও কোর্স ঘরে বসেই উপভোগ করতে পারছে। ১০ মিনিট স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্লাসরুমের পঠন-পাঠনকে অনেক বেশি আনন্দদায়ক ও ইন্টারেক্টিভ করেছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, অ্যানিমেটেড ভিডিও, ভিজ্যুয়াল সিমুলেশন এবং অনলাইন কুইজের মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা খুব সহজে আয়ত্ত করতে পারছে। ইন্টারনেটে বিনামূল্যে পাওয়া বই ও ই-বুক লাইব্রেরি জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তবে বাংলাদেশে ই-লার্নিংয়ের পূর্ণ সম্ভাবনার পথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেটের অভাব, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ঘাটতি এবং স্মার্ট ডিভাইসের উচ্চমূল্যের কারণে ডিজিটাল বৈষম্য দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের সচেতনতার অভাবও একটি সমস্যা।
ই-লার্নিংয়ের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। ট্র্যাডিশনাল ক্লাসরুম এবং অনলাইন শিক্ষার সমন্বয়ে 'হাইব্রিড লার্নিং' হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের মূল ধারা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এটি দেশের প্রতিটি কোণায় মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।