0 votes
ago in শিক্ষা by (5.5k points)
বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি ও গ্রীন এনার্জির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ কী কী? এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, কারণ, প্রতিকার বা কৌশল জানতে চাই। এডসেন্স ফ্রেন্ডলি এবং বিস্তারিত গাইডলাইন সহ মানুষের মতো সহজ ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক উত্তর দিন।

1 Answer

0 votes
ago by (17.9k points)
 
Best answer
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) দ্রুত হ্রাসের কারণে নবায়নযোগ্য শক্তির (Renewable Energy) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশও তার ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় গ্রীন এনার্জি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হলো সৌরশক্তি (Solar Energy)। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশে বছরজুড়েই পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। আবাসিক ভবনের ছাদ, চরাঞ্চল এবং অনাবাদি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। 'সোলার হোম সিস্টেম' গ্রামের লাখ লাখ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুশক্তি (Wind Energy) এবং বায়োগ্যাস ও বায়োমাস প্ল্যান্টের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগগুলোও সফল হলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তি নিশ্চিত হবে।

তবে নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রথমত, বাংলাদেশে জমির তীব্র সংকট রয়েছে; সোলার পার্ক স্থাপনের জন্য বিশাল সমতল জমির প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক সেটআপ খরচ বা প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ বেশ ব্যয়বহুল। এছাড়া রাত বা মেঘলা দিনে নিরবচ্ছিন্ন সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উচ্চ ক্ষমতার ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম এখনও বেশ ব্যয়বহুল।

এই বাধা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকা ছাড়া বিকল্প নেই। সরকারি নীতি সহায়ক রাখা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া গেলে বাংলাদেশ সফলভাবে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
Welcome to My QtoA, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.
...