তৈরি পোশাক শিল্প (Ready-Made Garments) বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি স্তম্ভ। দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই একক খাত থেকে। কোটি কোটি মানুষের, বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা লাখ লাখ নারীর আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে পোশাক শিল্প ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্ববাজারে 'মেড ইন বাংলাদেশ' ট্যাগটি মানসম্মত ও সাশ্রয়ী পোশাকের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমাদের গার্মেন্টসগুলোতে ব্যাপক রিমডেলিং হয়েছে। ফলে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবেশবান্ধব বা 'গ্রীন ফ্যাক্টরি' (LEED Certified Factory) এখন বাংলাদেশে অবস্থিত, যা বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই খাতটি বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মূলস্ফীতির কারণে ইউরোপ-আমেরিকার প্রধান বাজারগুলোতে পোশাকের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদনে ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এলডিসি (LDC) উত্তরণ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর মোকাবেলা করতে আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ (Product Diversification) প্রয়োজন। কেবল সাধারণ সুতির পোশাকের ওপর নির্ভর না করে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারের উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে নজর দিতে হবে।
এছাড়া অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং নতুন নতুন বাজার (যেমন: এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা) দখল করা জরুরি। সবুজ ও আধুনিক পোশাক খাত হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই হবে ভবিষ্যতের মূল লক্ষ্য।