আজকের ডিজিটাল বিশ্বে আমরা যখনই ইন্টারনেটে কোনো কিছু সার্চ করি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি বা কোনো অ্যাপ ব্যবহার করি, আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের একটি ডিজিটাল ছাপ (Digital Footprint) তৈরি হয়। ডাটা প্রাইভেসি বা তথ্য গোপনীয়তা বলতে বোঝায় কোনো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কারা, কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার বা অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারবে তার ওপর ব্যবহারকারীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকা।
আধুনিক যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাদের পছন্দ, অবস্থান, নাম, ফোন নম্বর এমনকি আর্থিক লেনদেনের ডাটা সংগ্রহ করে প্রফেশনাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি করে। অসচেতনতার কারণে আমাদের সংবেদনশীল তথ্য হ্যাকারদের হাতে পৌঁছালে আর্থিক ক্ষতি বা সামাজিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়।
অনলাইনে নিজের প্রাইভেসি বা তথ্য গোপনীয়তা রক্ষার প্রধান নিয়মগুলো হলো:
১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করুন। নিজের ফোন নম্বর, ইমেইল বা বর্তমান লোকেশন পাবলিক না রেখে কেবল বন্ধুদের জন্য সীমিত বা প্রাইভেট রাখুন।
২. যেকোনো মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করার সময় এটি আপনার ক্যামেরা, কন্টাক্ট বা গ্যালারির যে অ্যাক্সেস (Permission) চাচ্ছে তা প্রয়োজন কিনা তা যাচাই করুন। সাধারণ একটি টর্চলাইট অ্যাপের কন্টাক্ট অ্যাক্সেসের প্রয়োজন নেই।
৩. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় কখনোই ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইনপুট দেবেন না। প্রয়োজনে VPN ব্যবহার করুন।
৪. ব্রাউজারের কুকিজ ও ক্যাশ ডাটা পরিষ্কার রাখুন এবং যেসব ওয়েবসাইটে 'https://' (নিরাপদ চিহ্ন) নেই সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকুন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বজায় রাখাই তথ্য গোপনীয়তা রক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ বর্ম। নিজের তথ্যকে নিজের সম্পদের মতোই যত্ন সহকারে রক্ষা করা উচিত।