বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তার অন্যতম বড় উদাহরণ হলো 'টেলিমেডিসিন' বা ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা। ভিডিও কল, মোবাইল অ্যাপস এবং ফোন কলের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করার পদ্ধতিই হলো টেলিমেডিসিন।
আমাদের দেশে বেশিরভাগ উন্নত হাসপাতাল এবং প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বড় শহর কেন্দ্রিক, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। গ্রাম বা মফস্বলের রোগীদের সামান্য চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা দূরত্বের এই বাধা দূর করে দূরন্ত গ্রামের মানুষের কাছেও শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
বিভিন্ন ডিজিটাল হেলথ প্ল্যাটফর্ম (যেমন: ডাক্তার ভাই, মায়া, সেবা ঘর) চালু হওয়ার ফলে রোগীরা ঘরে বসেই প্রেসক্রিপশন পাচ্ছেন, ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট অনলাইনে দেখতে পাচ্ছেন এবং বাড়িতে বসে ওষুধ ডেলিভারি নিচ্ছেন। এমনকি সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে ডাক্তারী পরামর্শ সেবা মিলছে।
ডিজিটাল স্বাস্থ্যের আরেকটি বড় দিক হলো ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড রাখা। রোগীদের পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষার রিপোর্ট অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় ডাক্তাররা খুব সহজেই রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনা করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন।
তবে এই খাতের পূর্ণ বিকাশে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট, সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত শিক্ষার অভাব এবং গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত ডিজিটাল অবকাঠামোর অভাব কিছু বড় বাধা। এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা গেলে টেলিমেডিসিন বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে পারবে।