ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আজ আমাদের দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সিংহভাগই প্রতিদিন সক্রিয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। এটি যেমন যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে, তেমনি সমাজে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ফেলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ। যেকোনো সংবাদ বা ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এফ-কমার্স (F-commerce) বা ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ও নারী উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সামাজিক ও মানবিক নানা উদ্যোগে জনমত গঠন ও তহবিল সংগ্রহের জন্য এটি এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
তবে এর নেতিবাচক দিকগুলোও কম উদ্বেগজনক নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গুজব ও ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো, যা অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়।Cyberbullying, অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁসের ঘটনাও অহরহ ঘটছে।
তাছাড়া অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। অবাস্তব জীবনের সাথে নিজের তুলনা করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডিপ্রেশন, হতাশা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিচ্ছে। পারিবারিক ও পারস্পরিক সরাসরি যোগাযোগের অভাব সমাজকে আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি ছুড়ির মতো; এটি দিয়ে ভালো কাজও করা যায় আবার ক্ষতিও করা যায়। সঠিক অনলাইন সচেতনতা, তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের মানসিকতা এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল আমরা এর ইতিবাচক সুফলগুলো ভোগ করতে পারি।