বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ। এর উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মতো প্রকাণ্ড নদ-নদী দ্বারা পলি গঠিত এই দেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ (Delta) হিসেবে সুপরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈচিত্র্যময় জলবায়ু বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে।
বাংলাদেশ ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত। এখানে প্রধানত ছয়টি ঋতু—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়, তাই বাংলাদেশকে 'ষড়ঋতুর দেশ' বলা হয়। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশের কৃষিকাজ ও পলিময় উর্বর মাটির মূল উৎস।
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সিলেটের পাহাড়)।
২. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ (বরেন্দ্রভূমি, ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় এবং লালমাই পাহাড়)।
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি (দেশের সিংহভাগ অংশ যা উর্বর পলি দ্বারা গঠিত সমতল ভূমি)।
আমাদের নদীর বিস্তৃত জাল বিছানো ভূপ্রকৃতি কৃষিকাজের জন্য যেমন অত্যন্ত উপযোগী, তেমনি এটি বর্ষাকালে বন্যা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নিয়ে আসে।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও রৌদ্র-বৃষ্টির বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় কৃষিজ পণ্য এবং অপরূপ রূপ বৈচিত্র্য দান করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নৌ-যোগাযোগ ও কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।