প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা। প্রতি বছর হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এই পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করা অত্যন্ত সম্ভব। পরীক্ষাটি প্রধানত এমসিকিউ (MCQ) এবং ভাইভা এই দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
এমসিকিউ লিখিত পরীক্ষার প্রধান চারটি বিষয় হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সহ)। প্রতিটি বিষয়ে ২০ নম্বর করে মোট ৮০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। সফল হতে হলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বোর্ডের পাঠ্যবইগুলো ভালোভাবে রিভিশন দেওয়া অত্যন্ত দরকার।
বাংলার জন্য ব্যাকরণ অংশ—যেমন সন্ধি, সমাস, কারক-বিভক্তি, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, শুদ্ধ বানান এবং সাহিত্য অংশের বিখ্যাত লেখকদের রচনা ও জীবনী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। ইংরেজিতে পার্টস অফ স্পিচ, টেন্স, রাইট ফর্ম অফ ভার্বস, ভয়েস চেঞ্জ, প্রিপজিশন এবং ভোকাবুলারি জোরালো করা দরকার।
গণিত অংশে সাফল্য নির্ভর করে শর্টকাট টেকনিক ও মৌলিক ধারণার ওপর। পাটিগণিত (পাটিগণিতের শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত), বীজগণিতের মান নির্ণয় ও উৎপাদক, এবং জ্যামিতির মৌলিক সংজ্ঞা ও সূত্রগুলো নিয়মিত চর্চা করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য প্রতিদিনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী জানার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে আপডেটেড থাকতে হবে।
পরীক্ষার আগে বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করা এবং নিয়মিত সময় ধরে মডেল টেস্ট দেওয়া খুবই কার্যকর। নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে যেসব প্রশ্নের উত্তরে সন্দেহ থাকে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।