আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) হলো কম্পিউটার সায়েন্সের এমন একটি শাখা, যেখানে মেশিন বা কম্পিউটারকে মানুষের মতো চিন্তাভাবনা, শেখা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ঘটেছে এবং এটি স্বাস্থ্য, অর্থায়ন, যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে এক বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এআই-এর সবচেয়ে বড় অবদান হলো 'ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা' (Personalized Learning)। প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও ক্ষমতা একরকম নয়। এআই চালিত শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষার্থীর শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে তার উপযোগী কন্টেন্ট ও অনুশীলন তৈরি করে দিতে পারে। এতে দুর্বল শিক্ষার্থীরাও নিজেদের গতিতে শিখতে পারে।
এআই টিউটর এবং চ্যাটবটগুলো শিক্ষার্থীদের ২৪/৭ যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। জটিল গণিত, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বা যেকোনো বিষয়ের ধারণা এখন নিমিষেই জানা সম্ভব। তাছাড়া শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজ—যেমন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বরপত্র তৈরি এবং অ্যাসাইনমেন্ট চেক করার মতো সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহারে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতিরিক্ত এআই নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে অসদুপায় অবলম্বনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এআই-কে মূল শিক্ষকের বিকল্প না ভেবে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই শ্রেয়।
ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে এআই ও মানুষের সমন্বিত একটি রূপ। যে শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই এআই টুলসগুলোর সঠিক ও নৈতিক ব্যবহার শিখবে, তারা আগামী দিনের পরিবর্তনশীল বিশ্বে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে।