জলবায়ু পরিবর্তন হলো বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা, আবহাওয়ার ধরণ এবং জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, বনভূমি ধ্বংস এবং অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম কার্বন নির্গমন করেও বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিচু সমতল ভূমি এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে অত্যন্ত প্রকট। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে, যা কোটি কোটি মানুষকে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি কৃষি জমিতে প্রবেশ করছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিকাজ ও সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও কম্পন বহুগুণ বেড়ে গেছে। অসময়ে বৃষ্টিপাত, তীব্র দাবদাহ এবং ঋতু পরিবর্তনের অনিয়ম আমাদের বাস্তুতন্ত্র এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অভিযোজন (Adaptation) ও প্রশমন (Mitigation) কৌশল জোরালো করতে হবে। উপকূলীয় বাঁধ মজবুত করা, লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, ব্যাপক বনায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জোরালো ভূমিকা পালন করা জরুরি।